ফিল্মি স্টাইলে গভীর রাতে স্কুলে ঢুকে প্রশ্ন চুরি করতে গিয়ে আটক ছাত্রী

ফিল্মি স্টাইলে গভীর রাতে স্কুলে ঢুকে প্রশ্ন চুরি করতে গিয়ে আটক ছাত্রী

এবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গভীর রাতে ফিল্মি কায়দায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রশ্ন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এক ছাত্রী। গত শনিবার রাত ১টার দিকে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহীম, শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ও মহিউদ্দিন ওরফে মনিরসহ ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে যান।

জানা যায়, ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তার বান্ধবী ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীসহ তার ২ ছেলে বন্ধুর সহায়তায় এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি করার জন্য শনিবার রাত ১টার দিকে দেয়াল টপকিয়ে বিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে আগে থেকেই বানানো তালার চাবি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে একেক করে কয়েকটি আলমারির তালা ভাঙতে থাকে।

এ সময় পাশের রুমে থাকা নাইট গার্ড ফজলু তালা ভাঙার শব্দ শুনে ভিতরে গিয়ে ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীর হাতে ছুরি দেখেন। এ সময় ছাত্রী ওই নাইটগার্ডকে ফাঁসানোর ভয় দেখায়।

এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসে নাইটগার্ড বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদের বাসায় নিয়ে যান। পরে সেখানে ওই ছাত্রী ঘটনার বিস্তারিত বলে।

পরে মানবিক বিবেচনায় ওই রাতেই প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীর মা এবং ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে বিষয়টি জানালে তারা বিদ্যালয়ে এসে মেয়েকে নিয়ে যান। এদিকে তার বান্ধবীসহ এ কাজে জড়িত ৪ জন স্থানীয় একটি একাডেমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং করত।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লাল মাহমুদ বলেন, অন্য বিদ্যালয়ের ছাত্রী তার ভাষ্যমতে প্রশ্নপত্র চুরি করে বিক্রির জন্য ছেলেদের পোশাক পরে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। তবে পূর্বেই ফিল্মি স্টাইলে বিদ্যালয়ের তালা-চাবির ছবি তুলে তালা খোলার জন্য আলাদা চাবি বানিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সে।

তিনি বলেন, পরে কক্ষের ভিতরে কয়েকটি আলমারির তালা নষ্ট করে। পরে নাইট গার্ড শব্দ পেয়ে ভেতরে গিয়ে তাকে ছুরিসহ হাতেনাতে আটক করে। সে আমাদের জানিয়েছে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন চুরি করে বন্ধুদের কাছে বিক্রি করবে। পরে মানবিক কারণে ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার মাকে জানানো হলে তারা বিদ্যালয়ের এসে মেয়েকে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, এ কাজে জড়িত থাকার দায়ে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রশ্ন চুরির ঘটনা জানি না। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারা দেশ