মিমি’র স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো, স্বজনদের কান্না আর আহাজারি থামছেই না

মিমি’র স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো, স্বজনদের কান্না আর আহাজারি থামছেই না

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী আফসানা মিমি (২৬) গিয়েছিলেন সার্টিফিকেট আনতে। ইচ্ছা ছিল চাকরি করে অসহায় পরিবারে পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন কেড়ে নিলো সড়ক দু;র্ঘটনা। সার্টিফিকেট আনাই যেন কাল হলো তার। নিহতের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

রোববার (১৯ মার্চ) সকালে মা কানিজ ফাতেমা ও ছোট বোন রুকাইয়া ইসলাম রূপা গোপালগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে থেকে আফসানাকে ইমাদ পরিবহনের বাসে উঠিয়ে দেন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

নি;হত আফসানা মিমির শহরের হীরা বাড়ি রোডের বাড়িতে গিয়ে দেখা ও জানা গেছে, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী আফসানা মিমি হর্টিকালচার থেকে এমএস করেছেন।

রোববার সকালে মা কানিজ ফাতেমা ও ছোট বোন রুকাইয়া ইসলাম রূপা গোপালগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে থেকে আফসানাকে ইমাদ পরিবহনের বাসে উঠিয়ে দেন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পদ্মা সেতুর আগে এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুর জেলার শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় ইমাদ পরিবহনের ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে গেলে মা;রা যায় আফসানা। তার মা;রা যাওয়া খবরে বাড়িতে পরিবারে শো;কের মাতম।

সার্টিফিকেট আনাই যেন কাল হলো এসব কথা বলে চিৎকার করে আর্তনাদ করছেন আফসানার মা কানিজ ফাতেমা। তার আহাজারিতে আশপাশের লোক জড়ো হয়ে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনো ভাবেই তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। শো;কে কাতর হয়ে পড়েছে প্রতিবেশীরাও।

আফসানার বাবা আবু হেনা মোস্তফা কামাল একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। ছোট বেলাই আফসানার বাবা মা;রা যান। অনেক কষ্ট করে আফসানা ও তার বোন রুকাইয়া ইসলাম রূপার লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন মা কানিজ ফাতেমা।

দু;র্ঘ;টনায় গোপালগঞ্জের আফসানা মিনিসহ পাঁচজন মা;রা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জ শহরের সামচুল হক রোডের মাসুদ আলমের মেয়ে সুরভী আলম সুইটি (২২),

গোপালগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক অনাদী রঞ্জন মজুমদার (৫৩), বাসের সুপার ভাইজার মানিকদাহ গ্রামের মিজানুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে মিনহাজুর রহমান বিশ্বাস ও ড্রাইভার জাহিদ। তাদের পরিবারেও চলছে শো;কের মাতম।

ওই দু;র্ঘটনায় নি;হত অন্যান্যরা হলেন, গোপালগঞ্জ শহরের সামচুল হক রোডের মাসুদ আলমের মেয়ে সুরভী আলম সুইটি (২২), গোপালগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক অনাদী রঞ্জন মজুমদার (৫৩),

বাসের সুপার ভাইজার মানিকদাহ গ্রামের মিজানুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে মিনহাজুর রহমান বিশ্বাস, দুর্ঘটনা কবলিত বাসের ড্রাইভার জাহিদ, সদর উপজেলার বনগ্রামের সামসুদ্দিন শেখের ছেলে মোস্তাক শেখ (৪০) এবং মুকসুদপুরের আদমপুর গ্রামের আনজু খানের ছেলে মাসুদ খান (৩০)।

খুলনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের বাসটিতে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে ১৪ জন যাত্রী উঠে। তবে, তারা নিশ্চিত করতে পারেননি এর মধ্যে কতজন মা;রা গেছেন।

সারা দেশ