ঢাকাই চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা খলিল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় রুপালি জগত দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

অভিনয় ক্যারিয়ারে আট শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা।

২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর অসংখ্য ভক্তকে কাঁ;দিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। ফুসফুস, লি;ভার ও কিডনি জটি;লতায় গুরু;তর অসুস্থ অবস্থায় রাজ;ধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গুণী এই শিল্পী শেষ নিঃ;শ্বাস ত্যাগ করেন।

জীবদ্দশায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন খলিল। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) তার ষষ্ঠ মৃ;ত্যুবা;র্ষিকী। এ উপলক্ষে দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।

এদিকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

খলিল উল্লাহ খানের মেজ ছেলে মুসা খান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি বাবা গম্ভীর একজন মানুষ। তার কড়া শাসনে আমরা পাঁচ ভাই বড় হয়েছি।

আমাদের সবচেয়ে ছোট ভাইটা মারা যায় ১৯৯৩ সালের ৩ মে। বাবা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে আমরা কখনো আন্তরিকভাবে মিশতে পারিনি। আমরা ভাই-বোনরা তাকে ভয় ও শ্রদ্ধা করতাম- এভাবেই বড় হয়েছি।’

মৃ;ত্যুর আগের সময়গুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ১৩-১৪ দিন পরে আমরা আশা ফিরে পেলাম বাবা হয়তো সুস্থ হয়ে উঠবেন।

বাবা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেও এসেছিলেন। তারপর দশ-এগার মাস বাবা বেঁচে ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩ মে বাবা আজীবন সম্মাননা পেলেন। বাবার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটিতেই সন্ধ্যাবেলা আমার বড় ভাই মারা গেল। বাবা এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।’

‘আমি তখন সব ভয় ছেড়ে বাবার খুব ক্লোজ হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সময় বাবা তার চাকরি ও শুটিং জীবনের অনেক কথাই বলেছেন। বাবার সঙ্গে যখন মিশতাম তখন দেখতাম তার সব রাগ নকল, তার গাম্ভীর্য মিথ্যা।

দেখলাম তিনি তার ছেলেমেয়েদের এত ভালোবাসতেন বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের ভালোর জন্য, লেখাপড়া করানোর জন্য এই শাসন করতেন। আমার বাবা একজন গ্রেট বাবা।’

১৯৩৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা খলিল। তিনি একাধারে টিভি ও চলচ্চিত্রাভিনেতা। চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে কলিম শরাফী ও জহির রায়হান পরিচালিত ‘সোনার কাজল’ সিনেমার মাধ্যমে।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক হচ্ছে আব্দুল্লাহ আল মামুনের ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’। এই নাটকে মিয়ার ব্যাটা চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন প্রয়াত এই শিল্পী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *