বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাস সারোগেসির মাধ্যমে মা-বাবা হয়েছেন। শুক্রবার রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে মা হওয়ার সংবাদটি দেন প্রিয়াঙ্কা। একই পোস্ট শেয়ার করেন তার স্বামী গায়ক-গীতিকার নিক জোনাসও। এরপরই সারোগেসি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধ মতামত পোষণ করেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সেই মন্তব্যের জেরেই ফের বিতর্কের মুখে পড়েন এই লেখিকা। রবিবার সেই বিতর্ক মেটাতে নয়া টুইট করেন তসলিমা।

শনিবার তসলিমা সারোগেসি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন যে, এটি ধনী ব্যক্তিদের একটি আত্মতুষ্টিকরণের পদ্ধতি। এমনকি সারোগেট বাচ্চাদের “রেডিমেড শিশু” বলে অভিহিত করে। তসলিমা কোনো নাম উল্লেখ না করলেও, অভিনেতা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস এবং নিক জোনাস সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের প্রথম সন্তানকে স্বাগত জানানোর ঘোষণা করার কিছু ঘণ্টা পরই সারোগেসি নিয়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন লেখিকা। তসলিমা বলেছিলেন যে “যদি একটি সন্তানকে বড় করার প্রয়োজন হয় তবে একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নিন”।

তসলিমা টুইট করেছেন, “সারোগেসি সম্ভব কারণ সেখানে দরিদ্র মহিলা রয়েছে। ধনী লোকেরা সবসময় তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য সমাজে দারিদ্র্যের অস্তিত্ব চায়। আপনার যদি একটি সন্তান লালন-পালনের প্রয়োজন হয়, তবে অনাথ শিশুকে দত্তক নিতে পারেন। শিশুকে অবশ্যই আপনার চারিত্রিক বা জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলি উত্তরাধিকারসূত্রে পেতে হবে – এটি হল শুধু একটি স্বার্থপর আত্মতুষ্টিকরণের অহং।” তিনি আরও লিখেছেন, “সারোগেসির মাধ্যমে যখন তারা তাদের রেডিমেড বাচ্চাদের পায় তখন সেই মায়েদের অনুভূতি কেমন হয়? যে মায়েরা বাচ্চাদের জন্ম দেন তাদের বাচ্চাদের প্রতি কি তাদের একই অনুভূতি থাকে?”

তসলিমার টুইট সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে। কেউ লেখিকার পক্ষ নেন কেু আবার নায়িকার। সবমিলিয়ে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। কিছু নেটিজেন লেখেন, অনেক লোক চিকিৎসার কারণে সারোগেসি বেছে নেয়, কিছুজনের মত, একটি দম্পতি কীভাবে বাবা-মা হতে চান তা তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দ। কিছু নেটিজেন বলেছেন যে, লোকেদের দত্তক নেওয়া উচিত, কেউ কেউ আবার লিখেছেন যে, কেউ যদি দত্তক নেওয়ার প্রতি ন্যায়বিচার করতে না পারে তবে তাদের উচিত নয়। একজন মহিলা লিখেছেন যে “রেডিমেড” শব্দটি ব্যবহার করা লেখিকার উচিত হয়নি।

রবিবার সকলে এই সমস্ত বিতর্ক মেটাতেই তসলিমা টুইট করেন, সারোগেসি নিয়ে তাঁর টুইট শুধুমাত্র সারোগেসি সম্পর্কে তাঁর মতামত। এর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা নিকের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি এই দম্পতিকে ভালোবাসি। তসলিমার এই টুইটের পরও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। সত্যিই যদি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে এই সম্পর্ক না থেকে তাহলে তাঁর মা হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে আচমকাই এই বিষয় নিয়ে কেন বিতর্কিত মন্তব্য শুরু করলেন লেখিকা, সবটাই কী কাকতালীয় নাকি বিতর্ক চাপা দিতেই সাফাই দিলেন তসলিমা! প্রশ্ন নেটিজেনদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.