“ভ্লাদিমি পুতিন” সাহেব কবে আমাদের দেশে এসে রেল ভ্রমণ করে গেলেন তা আমরা কেউ জানলাম না, এটা খুবই দু:খজনক বিষয়। এভাবে চলতে থাকলে “বাইডেন” সাহেব এসে রেলে উঠলে সেটাও হয়ত কেউ জানতে পারব না।

প্রয়াত জর্জ ওয়াশিংটন বা উইন্সটন চার্চিল টিকিট কাটলেও অবাক হবার কিছু নেই। ফান করলাম। কিন্তু সরকারি সিস্টেমে ফান করার কোন অবকাশ নেই। জগতের কোথাও পাসপোর্ট কিংবা অথোরিটি কর্তৃক ভেরিফাইড নাম ছাড়া অন্য নামে রেল টিকিট করতে পারবে না। কারণ টিকিট করার সময় সিস্টেম তা যথাযথভাবে যাচাই করেই তবে টিকিট ইস্যু করবে।

ভারতে রেল টিকিট করার আগে বিশাল এক ফর্ম পূরণ করতে হয় বলে জানি। জগত জুড়ে কেন এত কঠিন সিস্টেম?

কোন দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে যাত্রীর পরিচয় বের করা যায়। কোন ধরণের নাশকতায় যাতে জড়িত যাত্রীকে সনাক্ত করা যায়। এছাড়াও আরও অনেক কারণ আছে। আমাদের রেল অনলাইন ডাটা বেজ করছে কোন রকম ভেরিফিকেশন ছাড়াই। যাত্রীকে তার নাম ও এনআইডি নাম্বার দিয়ে রেল সার্ভারে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কিন্তু তা এনআইডি সার্ভার ভেরিফিকেশন ছাড়াই।

এনআইডি সার্ভারের সাথে রেল হুক-আপ করেনি। ফলে যাত্রী রেলে রেজিস্ট্রেশন করার সময় যে কোন নাম এবং ১৩ বা ১৭ ডিজিটের যে কোন সংখ্যা বসিয়ে রেজি: করে টিকিট করতে পারে। যেমন “১১১১১১….” বা “২২২৩৩৩৩৩…..”। জর্জ বাইডেন বা ভ্লাদিমি চার্চিল, যে নামই দিন, রেজিস্ট্রেশন হয়ে রেল টিকিট কাটতে পারবেন।

এতে ভয়াবহ ব্যাপার দুটি। এক, যে কোন নাম ও এনআইডি সংখ্যা বসিয়ে বিপদ ঘটানো। দুই, আপনার অরিজিনাল নাম ও এনআইডি নাম্বার যদি কেউ জানে, সে সেটা ব্যবহার করে টিকিট কেটে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।

এনআইডি সার্ভার হুক-আপ না করে আন্দাজে এনআইডি নাম্বার ও নাম দিয়ে কোন ডাটাবেজ তৈরি করে সেটা ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার সিস্টেম চালু করার কোন অবকাশ কোন সরকারি দপ্তরের হতেই পারে না। রেলে সাড়ে তিনমাস থাকাকালীন প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছিলাম নির্বাচন কমিশন সার্ভারের সাথে রেলের হুক-আপ করানোর জন্য। সিএনএসবিডি আমার অনুরোধে সফটওয়্যার সহ সবকিছু রেডি করে ফেলেছিল। আফসোস! রেলের কোন সাড়া পাইনি।

(অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলনের ফেসবুক স্ট্যাটাস)

Leave a Reply

Your email address will not be published.