হু হু ক‌রে বে‌ড়ে যাওয়া ডলারের দাম এখন কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজা‌রে তিন দি‌নের ব্যবধানে দাম কমেছে ৫ টাকা। ত‌বে ব্যাংকগু‌লো‌তে এখনও দাম অপরিবর্তিত র‌য়ে‌ছে।

বৃহস্পতিবার ১৯ মে রাজধানীর ব্যাংক পাড়া মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম, গুলশান এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মা‌নি এক্সচেঞ্জ (মুদ্রা বিনিময়) হাউসগুলোতে আজ খুচরা ডলার ৯৭ টাকা থেকে ৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা দুইদিন আগেও ১০২ টাকায় বিক্রি হ‌য়ে‌ছে। ত‌বে ব্যাংকগু‌লো‌তে এখ‌নও আগের চড়া দামে অর্থাৎ ৯৪/৯৬ টাকায় খুচরা ডলার বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পাইওনিয়ার এক্সচেঞ্জ হাউসে ডলারের দাম জানতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, আজ‌ ডলার বিক্রি কর‌ছি ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা থে‌কে ৯৮ টাকায়। ত‌বে আজ‌কে ডলার কি‌নিনি। গত দুই দি‌নের চে‌য়ে আজ‌কের বাজার নিম্নমুখী।

পল্ট‌নে আরেক ডলার ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, বাজার কম‌তির দি‌কে। ৯৭ থে‌কে ৯৮ টাকা বিক্রি কর‌ছি। ত‌বে ৫০ পয়সা ক‌মে কিন‌ছি।

গুলশানের মেট্রো মানি এক্সচেঞ্জের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান মিয়া বলেন, গতকালের তুলনায় আজ দাম কিছুটা কম। আজ‌ ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা ডলার বিক্রি কর‌ছি, আর ৯৬ টাকা ৫০ পয়সায় কিন‌ছি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দাম বেঁধে দিয়েছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বেঁধে দেওয়া এ দাম বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মানছে না। এখন ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ডলা‌রের দাম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম ব‌লেন, আমদা‌নি চা‌পের কারণে চা‌হিদা বে‌ড়ে‌ছে। এ কারণে দাম বে‌ড়ে‌ছে।

খোলা বাজা‌রে বে‌শি দা‌মের বিক্রির বিষ‌য়ে তি‌নি ব‌লেন, কার্ব মার্কেটে খুচরা ডলার কেনাবেচা হয়। ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন কারণে বিদেশে যাওয়ার সময় কিছু ডলার সঙ্গে নিতে হয়। ওইসব ব্যক্তিরা সহ‌জে খোলা বাজার থেকে ডলার কেনেন। এখন সেখানে চাহিদা বেশি। এই সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ডলারের দাম বেশি নিয়ে অতি মুনাফা করছে।

আর আমদানির ক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখ‌ছে। কোনো অনিয়ম পালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.