দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বিপদগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়াতে এগিয়ে এসেছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

তাদেরই একজন সংগীতশিল্পী তাশরীফ খান। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে যে কজন আলোচিত ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তাশরীফ তাদের অন্যতম।

ইতিমধ্যেই বন্যার্তদের সহযোগিতায় প্রায় দেড় কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে তাশরীফ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আমি জানি আপনারা সবাই আমাদের আপডেট জানার জন্যে অপেক্ষায় থাকেন।

শুরুতে জানুন আমরা সবাই সুস্থ আছি আলহামদুলিল্লাহ। গত কয়েকদিনে আমরা ৩০০০ এর বেশি পরিবারের কাছে খাবার পৌছে দিয়েছি এবং আরও দিচ্ছি প্রতিদিন।

আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেসব যায়গায় একেবারেই খাবার যাচ্ছে না সেসব যায়গা গুলোতে পৌছাবার।

কিছুটা স্বস্থির সাথে জানাচ্ছি দ্বিতীয় বার ফান্ড কালেকশন শুরু করার পর প্রথম ২৪ঘন্টায় আমরা ১কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করেছি আলহামদুলিল্লাহ।

এখন পর্যন্ত খুব সম্ভবত ১কোটি ২০লক্ষ টাকার বেশি এসেছে এবং আসছে বাকিটা কাল হিসেব করে জানাব। লেখা ছোট করার স্বার্থে আপাতত জানুন যে সামনের কয়েকদিনে আমরা অন্তত ১০০০০ পরিবারের কাছে খাবার পৌছে দেব।

এবার শুধু শুকনো খাবারই না, সাথে থাকবে ভাতের চাল,ডাল, বাচ্চাদের জন্যে দুধ, খেজুর, কিছু ইমার্জেন্সি ঔষধ সহ আরও প্রয়োজনীয় অনেক কিছু।

আপনারা জানেন যে এখানে নেটওয়ার্ক সব যায়গায় থাকে না আর আমরাও কখন কোথায় থাকি এটাও নির্দিষ্ট না। এসব নানাবিধ কারনে সবসময় আপডেট জানাতে পারছি না বলে ক্ষমা করবেন। একটা ব্যাপারে আস্বস্ত করতে চাই এখন থেকে যে এলাকায়ই যাব সে এলাকার কোন মানুষের আর না খেয়ে থাকা লাগবে না। এইটুকু জিনিস নিশ্চিত করার জন্যেই বার বার করে সবাইকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছি।

আমাদের আরেকটা উদ্যোগ সম্পর্কে জানাতে চাই। খুব শিঘ্রই আমরা একেবারে বঞ্চিত এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন বেলা রান্না করে খাওয়ানোর ব্যাবস্থা করব।

জানেন ত ওরাও আমাদের মতই মানুষ। শুকনো খাবার খেয়ে আর কতদিন ই বা থাকতে পারে বলেন। প্ল্যানিং চলছে। আমরা হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা আমাদের প্রতিটা ধাপে কাজ শুরু করার আগে অন্তত কয়েকশ বার ভেবে প্রোপার প্ল্যানিং করেই কাজ করে যাচ্ছি এবং যাব।

আমি জানি শুধু সিলেট না, অন্যন্য বেশ কিছু জেলায় বন্যার পরিস্থিতি ভালো না। দূর থেকে অনেকেই বলছেন ফান্ড পাঠাতে কিন্তু আমি এখানে থেকে কোথাও ফান্ড পাঠাতে পারছি না কারন এই টাকাগুলো আমার কাছে আমানত। শীঘ্রই আমি অন্যান্য জেলায় নিজে গিয়ে কাজ করব এবং যা ই করি সবাইকে জানিয়ে করব।

আগামিকাল আরেকটা ফেইসবুক লাইভ করে আমি আরও বিস্তারিত জানাব সবকিছু। ভরসা রাখবেন। সকথা দিচ্ছি বন্যা যতদিন আছে ততদিন আমি এবং আমার তাসরিফ স্কোয়াড বানভাসি মানুষের পাশে আছি।

তার এই স্ট্যাটাসের একদিন পরই বৃহস্পতিবার রাতে আবারও লাইভে এসে এই গায়ক জানান, ইতিমধ্যে আমারা প্রায় দেড় কোটি টাকা সংগ্রহ করেছি।

যা দিয়ে সামনের কয়দিনে ৫টি উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে প্রায় ১২০০০ হাজার পরিবারের কাছে ১ ২থেকে ১৫ দিনের খাবার পৌছে দেব।

আপনাদের পরবর্তী সাহায্যের উপর নর্ভর করবে আমরা বন্যায় আক্রান্ত অন্যায় জেলায় কাজ করতে পারব কি না! যতদিন মানুষের ঘরে পানি আছে ততদিন আমরা মাঠে থাকব এটা আমার ওয়াদা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.