পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাজিরা প্রান্তে জনসভায় যেতেই পদ্মা সেতুতে মানুষের ঢল নেমেছে। সেতুতে সাধারণ জনগণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে পদ্মা সেতুতে উঠে পড়ে উৎসুক জনতা।

দলে দলে হাজার হাজার মানুষ হেঁটে সেতুতে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অবশ্য এ সময় তাদের বাধা দেননি সেতুতে দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নিয়ম না থাকলেও এর আগেই বেশ কিছু গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে সেতুতে উঠতে দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় হেঁটে সেতুতে উঠতে থাকে মানুষ।

রাইসুল নামে এক যুবক জানান, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন ছিল পদ্মা সেতুতে ওঠার। আজ সে স্বপ্ন পূরণ হলো। সেজন্য আমরা মহাখুশি।

রোজিনা আক্তার নামে এক নারী জানান, এতদিন পদ্মা সেতু নির্মাণের খবর দেখতাম। আজ সেতুটির উদ্বোধন হয়েছে। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।

বরিশাল থেকে আসা মো. সিরাজ হাওলাদার বলেন, আমি পদ্মা সেতু উদ্বোধন দেখতে গতকাল বরিশাল থেকে এসেছি। আসলেই পদ্মা সেতু আমার জন্য অনেক কষ্টের অবসান ঘটালো। এতোদিন আমার বাড়ি যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পদ্মা সেতু হওয়ায় আমার ও আমার মতো দক্ষিণবঙ্গের মানুষের চিরদিনের জন্য কষ্ট দূর হলো।

এর আগে শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর পদ্মা সেতুর স্মারক ডাকটিকিট, স্মারক মুদ্রা, স্মারক খাম ও স্যুভেনির অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমেই খুলে যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সড়ক পথের দ্বার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.