ময়মনসিংহের নান্দাইলের সিংরুইল ইউপির হরিপুর গ্রামে ভাই-বোনসহ প্রায় ২০ জন অতিথি নিয়ে এসেছেন বরযাত্রী। খাওয়া দাওয়া শেষ। সন্ধ্যার পর কনের উপস্থিতিতে বিয়ে নিবন্ধন শুরু। কিন্তু বাদ সাধেন কনে। জানতে পারেন তার হবু স্বামী এর আগেও আরো দুটি বিয়ে করেছেন।

বর সটকে পড়তে চাইলে হামলার শিকার হয় বরযাত্রী। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে বরের অন্তঃসত্ত্বা বোনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে সন্তান্ত জন্ম দেন ওই নারী। এদিকে কনের বাড়িতে বরসহ অন্যদের আটকে রাখে কন্যা পক্ষ। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাতেই তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার শেরপুর ইউপির বিষ্ণপুর গ্রামের মো. ওয়াহেদ আলীর ছেলে মো. স্বপন মিয়ার বিয়ে ঠিক হয় পাশের সিংরইল ইউপির হরিপুর গ্রামে। বিয়ে নিবন্ধনের আগেই ঘটে এই ঘটনা।

বিয়ের আগ মূহুর্তে কনে জানান, এই বিয়েতে তার সম্মতি নেই। কারণ তিনি জানতে পেরেছেন তার হুবু স্বামী এর আগেও আরো দুটি বিয়ে করেছেন। তার অত্যাচারে স্ত্রীরা কয়েক মাস সংসারের পর চলে গেছেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিয়ের আসর থেকে পালাতে চান বর স্বপন। পরে তাকে মারধর করে আটকে রাখে কনে পক্ষ।

বরের ভাবী মাজেদা খাতুন বলেন, এ সময় তাদের কাছে নগদ কোনো টাকা না থাকায় বাড়িতে গিয়ে ধার্যকৃত টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিলেও তা মানেনি কনে পক্ষ।

এক পর্যায়ে বিকাশে এনে ২০ হাজার টাকা দিলেও কনের লোকজনের কবল থেকে মুক্তি মেলেনি। পরে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে সকলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বর স্বপন মিয়া জানান, ঘটক দুটি বিয়ের কথা না বলে একটি গোপন রেখেছিলেন। একটিতে কনের লোকজনের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু দুটি বিয়ের কথা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে। এতে তার শারীরক ও মানসিক ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কনের চাচা বলেন, আমাদেরতো সর্বনাশ করছে। আমরা কি দিয়ে শান্তনা নিবো। এ ঘটনার বিচার কে করবে।

নান্দাইল থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, বরের প্রতারণার ঘটনায় কনে পক্ষ আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.