বন্দর থেকে স্বল্পমূল্যে গাড়ি কিনে দেওয়ার আশ্বাসে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমানে অর্থ হাতিয়ে নিতেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। সেই টাকা নিয়ে একই রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের গাড়ি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করতেন বার বার।

আর এই পদ্ধতিতেই প্রতারণা করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার মে;ঘনার মানিকাচর ইউনিয়ন পরিষদের এই চেয়ারম্যানের বিরু;দ্ধে। প্র;তার;ণা করে প্রায় ৩০০ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর মুগদা থানার একটি মামলার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার মেঘনা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রে;ফতার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংসদ সদস্য (এমপি), পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, জাকির বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে গাড়ি কিনতে পুরো টাকা নিলেও সেটি ডাউন পেমেন্টে কিনতেন। আবার সেসব গাড়ি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ায় দিতে করতেন আলাদা চুক্তি।

এর বাইরে বিভিন্নজনের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে কখনো কখনো গাড়ি কিনতেন ডাউন পেমেন্টে, আবার কাস্টমারকে না জানিয়েই নিতেন ব্যাংক লোন। সেই টাকা ভাড়ায় খাটানোর কথা বলে চুক্তির পর কয়েক মাস ঠিকমতো অর্থ পরিশোধ করতেন তিনি। তবে কয়েক মাস পর থেকে তিনি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিতেন। তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এভাবে অনেকেই ভুক্তভোগী হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অভিনব এ পন্থায় অন্তত ৩০০ জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা জাকির হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রে;ফতা;র জাকির হোসেন কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানাধীন ২ নম্বর মানিকাচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

ডিবির কর্মকর্তা আরো জানান, এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মুগদা থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। পরে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিম মামলাটির ছায়া-তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের এক পর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি জানায়, জাকির ২০০৮ সালে ঢাকায় এসে গাড়িচালনার প্রশিক্ষণ নেন। পরে তিনি ঢাকায় লেগুনা চালানো শুরু করেন। দুই বছর লেগুনা চালানোর পর তিনি একটি গাড়ি কেনেন। কুমিল্লার তার সঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতা হয়। ঐ কর্মকর্তা তাকে একটি গাড়ি কিনতে ভাড়া দেন।

ধীরে ধীরে তার সঙ্গে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পরিচয় হয়। এ সখ্যের সূত্র ধরেই অল্প দামে গাড়ি কিনে ভাড়ায় খাটানোর প্রলোভনের ফাঁদে পান দেন অনেকেই। তাদের একটি বড় অংশ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া তিনজন এমপিও কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.