সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী দুই ছেলের কাছে চাঁদা আদায়ের কৌশল হিসেবে তাদের মাকে যৌন হেনস্তা করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, এই ঘটনায় জড়িত চার ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে তাদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বেনামি একাধিক আইডি থেকে সাড়ে ৪ মিনিটের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এতে দেখা যায়, চারজন যুবক একজন মধ্য বয়স্কা নারীকে টানা-হেঁচড়া করছেন। কখনো তার শাড়ির আঁচল ধরে টানাটানি করছেন। এ সময় নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ওই নারীকে কাকুতি-মিনতি করতে দেখা যায়।

ওই নারীর আত্মীয়দের দাবি, এমন ভিডিও করে ওই নারীর প্রবাসী ছেলেদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা।

ওই নারীর এক আত্মীয় জানান, গত ২৮ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। নারীর বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। তার স্বামী নেই। চার মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের ইতোমধ্যে বিয়ে দিয়েছেন আর দুই ছেলে দুবাই প্রবাসী। বাড়িতে একাই থাকেন তিনি।

গত ২৯ আগস্ট বাড়িটি তালাবদ্ধ করে তিনি হঠাৎ প্রতিবেশী কাউকে না জানিয়ে পাশের গ্রামে তার বাবার বাড়িতে চলে যান। হঠাৎ বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণ জানতে গিয়ে আত্মীয়রা ওই নারীর মুখে ঘটনাটি শোনেন।

এরপর প্রবাস থেকে তার দুই ছেলে তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওটি তাদের দুই ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছেন এক ব্যক্তি।

নারীর এক আত্মীয় বলেন, প্রবাসে থাকা দুই ছেলে উদ্বিগ্ন হয়ে জানিয়েছেন, ভিডিও ধারণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সম্পূর্ণ ভিডিও উদ্ধার করার জন্য। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গত বুধবার রাতে একটি সালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ভিডিও ধারণকারীদের চার লাখ টাকা দেওয়ার ফয়সালা করে অগ্রিম এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। গত শনিবার এ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। টাকা না দেওয়ার একদিন পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার খবর পান তারা।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ রকম ভিডিও পেয়ে আমরা সংগ্রহ করে দেখেছি। যে চার ব্যক্তি ওই নারীকে হেনস্তা করেছেন তাদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *