প্রতিবছর মঙ্গল গ্রহের ওপর শত শত বাস্কেটবলের আকারের পাথর আছড়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে রহস্যময় লাল গ্রহটির বুকে তৈরি হয় অনেক গর্ত। গ্রহের নানা প্রান্তে তা বেশ জোরালো আওয়াজও সৃষ্টি করে।

এখন আর সক্রিয় নয়, এমন একটি মিশনে পাওয়া ডাটা বিশ্লেষণ করে এই শিলাপাতের কথা জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের পরিকল্পনাকারীরা এই তথ্যগুলো কাজে লাগাতে পারবেন। ভবিষ্যতের রোবটিক অভিযানের পাশাপাশি মানব মহাকাশচারীবাহী যানগুলো অবতরণের নিরাপদ স্থান বের করা সহজ হবে এতে।

মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করা নাসার যান ‘ইনসাইট’ থেকে এই ‘শিলাবৃষ্টির’ তথ্য পাওয়া গেছে। স্থির ল্যান্ডারটির সৌর প্যানেলে অতিরিক্ত ধুলা জমে যাওয়ায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।

শেষ হয় ইনসাইট মিশন। তবে যানটির সংগ্রহ করা মূল্যবান ডাটা এখন নতুন গবেষণাকে এগিয়ে নিচ্ছে।

ইনসাইট ল্যান্ডার মঙ্গলগ্রহের বুকে প্রথম কোনো সাইসমোমিটার নিয়ে গিয়েছিল। সংবেদনশীল যন্ত্রটি তার অবস্থান থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরের কম্পনের তরঙ্গও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইনসাইট অবতরণ করেছিল মঙ্গলগ্রহের বিষুবরেখার ঠিক উত্তরে মসৃণ সমতল অঞ্চল ইলিসিয়াম প্লানিশিয়াতে।

মঙ্গলগ্রহের কার্যকালে ইনসাইট তার সাইসমোমিটার ব্যবহার করে এক হাজার ৩০০টিরও বেশি ‘ভূকম্পন’ শনাক্ত করে। চাপ এবং তাপের কারণে মঙ্গলগ্রহের ভূগর্ভে ফাটল সৃষ্টি হলে ওই কম্পন ঘটে।

তবে ইনসাইট মঙ্গলগ্রহে ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ারও অনেক প্রমাণ পেয়েছে। এসব উল্কাপিণ্ড হচ্ছে মহাকাশের আরো বড় পাথুরে কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া টুকরা।

এগুলোর আকার হচ্ছে ধূলিকণা থেকে শুরু করে ছোট গ্রহাণু পর্যন্ত।

সৌরজগতের প্রধান গ্রহাণু এলাকার পাশে অবস্থিত হলেও মঙ্গলগ্রহে কেন আরো বেশি উল্কাপিণ্ড আঘাত করেনি, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে, আরো বেশি উল্কা জ্বলেপুড়ে বা ভেঙে না গিয়েই মঙ্গলপৃষ্ঠ পর্যন্ত ছুটে গিয়ে মাটিতে আঘাত হানতে পারে।

২০২১ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ইনসাইটের ডাটা নিয়ে গবেষণা করছেন। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে গত শুক্রবার প্রকাশিত তাদের একটি নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, মহাকাশের ওই ছোট শিলাগুলো বিজ্ঞানীদের আগের ধারণার চেয়ে দুই থেকে ১০ গুণ বেশি হারে মঙ্গল গ্রহে আছড়ে পড়েছে।

সূত্র : সিএনএন।

আরাও পড়ুন... সেরা উক্তি