একটি ছোট অপরিচিত উপসাগরীয় রাজতন্ত্র থেকে কাতার এখন বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। কাতারের বর্তমান রাজতন্ত্রের পরিবার গত ১৩০ বছর যাবত দেশটি শাসন করছে। দেশটির ইতিহাসে পরিবারের এক সদস্যকে সরিয়ে দিয়ে আরেক সদস্যের জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের ইতিহাসও রয়েছে।

শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৩ সালে। শেখ তামিম যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর।

তার বাবা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি কাতারে জনগণের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণের মাধ্যমে উত্তরাধিকারীর কাছে এই ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক লেখক মেশি কোয়েন মেশি কোয়েন-এর মতে, ছোট্ট এই আমিরাতকে তিনি ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার হাউজ বানিয়েছেন। কাতারের রাজধানী দোহাকে অনেকে মধ্যপ্রাচ্যের জেনেভা হিসেবেও বর্ণনা করেন।

ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বের ইতিহাস এই পরিবারে বেশ পুরনো। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে রাজতন্ত্র রয়েছে সেখানে নিজের ইচ্ছায় সন্তানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার নজির নেই।

বর্তমান আমিরের বাবা শেখ হামাদ তার পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৯৬ সালে প্রথম দিকে ক্ষমতায় আসেন। তার বাবাও ১৯৭২ সালে তার চাচাতো ভাইকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।

অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, পরিবারের মধ্যে কোন বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই ২০১৩ সালে তৎকালীন আমির শেখ হামাদ তার ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

শেখ হামাদ চেয়েছিলেন তার ছেলেকে ক্ষমতায় বসিয়ে তিনি নিজে সেটি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ছেলের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবেন।

শেখ হামাদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন শেখ হামাদ বিন জসিম, যিনি ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিবিদ।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, শেখ হামাদ বিন জসিম ঘনিষ্ঠ সহচর হলেও তাকে নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি ছিল তৎকালীন আমিরের।

নতুন আমির শেখ তামিম ক্ষমতা নেবার পরপরই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করে শেখ জসীমকে বাদ দেন।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হামাদ অনেকদিন যাবত চেয়েছিলেন শেখ জসীমকে বাদ দিতে। কিন্তু সেটি পরবর্তীতে তিনি তার ছেলেকে দিয়ে করিয়েছেন।

আরাও পড়ুন... সেরা উক্তি