নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাতেন (৬০) খুন হয়েছেন। রোববার ভোর রাতের দিকে কোনো এক সময় বিশাউতি জামে মসজিদের বারান্দার শয়নকক্ষে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। ঈদের দিন সোমবার ভোরে হাসপাতালে নিলে তিনি মারা যান।

নিহত মাওলানা আব্দুল বাতেন কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সন্যাসীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত বছির পণ্ডিতের ছেলে। বাতেন রংছাতি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার ও বিশাউতি বাইতুন নুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন।

এলাকাবাসী, নিহতের স্বজন এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে কে বা কারা মসজিদে গিয়ে তার শয়নকক্ষে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় স্থানীয়দের ডাক চিৎকারের প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সোমবার সকালে ওখানে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সৌরভ ঘোষ বলেন, মাওলানা আব্দুল বাতেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

নিহত মাওলানা আব্দুল বাতেনের বড় ছেলে বদিউজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে কলমাকান্দা হাসপাতালে যাই। সেখানকার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার বাবার অবস্থা অবনতি দেখে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সোমবার সকালে ওখানে জরুরি বিভাগে পৌঁছামাত্রই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত চলছে। মাওলানা আব্দুল বাতেনের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে আছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরাও পড়ুন... সেরা উক্তি