ভালো চাকরির কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশি ২৫ নারীকে জোর করে যৌন পেশায় নামানোর অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে তিন নারী কাতার পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থানায় মামলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আঁখি (ছদ্মনাম) জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর আশায় ভালো চাকরির আশ্বাসে দুই মাস আগে কাতারে যান তিনি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাঁর স্বপ্ন ভেঙে যায়।

হোটেলে একের পর এক পুরুষের শ;য্যাস;ঙ্গী হতে বা;ধ্য করা হয় তাঁকে।

আঁখি বলেন, দোহার জাবর বিন মোহাম্মদ স্ট্রিটের একটি ভবনের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটে ওই বাংলাদেশি নারীদের আটকে রেখে তিনটি হোটেলে পুরুষদের শ;য্যা;স;ঙ্গী হতে বা;ধ্য করা হয়।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পা;চা;রকা;রীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন আঁখি। তিনি মামলায় বলেছেন, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েক ব্যক্তি মিলে ওই নারীদের দোহায় নিয়ে গিয়ে অবৈধ হতে বাধ্য করছেন।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাফিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে চক্রটির। ওই নারীদের উদ্ধার এবং অপরাধীদের আটকের ব্যাপারে আমরা ইন্টারপোলের সহায়তা নেব।’ আঁখি বলেন, ‘মাসে এক লাখ টাকা বেতনে পার্লারে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। এ জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়ে পার্লারের কাজও শিখি।

এরপর কাতারে যাওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দিই। গত ৩ অক্টোবর দোহায় যাওয়ার পর যে ফ্ল্যাটে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে আরো ১০-১২ জন বাংলাদেশি তরুণী ছিল। তাদের সবার বয়স ২০ বছরের কম। বিভিন্ন ফ্ল্যাটে এ রকম ২৫ জনের বেশি মেয়ে আছে। পরে বুঝতে পারি, মানবপাচারকারীদের কবলে পড়েছি।